হ্যালো বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করবো ওয়েব ব্রাউজার কি ও ৯টি সেরা ইন্টারনেট বা ওয়েব ব্রাউজার(what is web browser in bengali) সম্পর্কে ।তবে ওয়েব ব্রাউজার ও সার্চ ইঞ্জিন এক নয় কিন্তু অনেকেই এই দুই বিষয়ে গুলিয়ে ফেলেন।আজ তাই ওয়েব ব্রাউজার সম্পর্ককে বিশদে এই পোস্ট।
ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য ওয়েব ব্রাউজার একটি অবিচ্ছেদ্য সফটওয়্যার। ওয়েব ব্রাউজার ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব তাই ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক ব্রাউজার নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সেরা ওয়েব ব্রাউজার সম্পর্কে জানার আগে চলুন জেনে নি ওয়েব ব্রাউজার সম্পর্কে কিছু বিশদ তথ্য।
ওয়েব ব্রাউজার কি ?
উইকিপিডিয়া ডেফিনেশন হিসেবে ওয়েব ব্রাউজারে একটি এমন সফটওয়্যার যার সাহায্যে কোন ইউজার কোন একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য ওয়েব সার্ভার থেকে তার ডিভাইসে দেখতে পারে।
অনেকেই ওয়েব ব্রাউজারের সাথে সার্চ ইঞ্জিন কে গুলিয়ে ফেলেন কিন্তু মনে রাখতে হবে সার্চ ইঞ্জিন এবং ওয়েব ব্রাউজার কিন্তু এক জিনিস নয়।
সার্চ ইঞ্জিন হল এমন একটি ওয়েব সার্ভিস যার মাধ্যমে আপনারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক দেখতে পারেন কিন্তু ঐ সমস্ত ওয়েবসাইটের লিংক গুলিকে কম্পিউটার বা মোবাইলে সঠিকভাবে দেখার জন্য ওয়েব ব্রাউজার ইনস্টল করা দরকার হয়ে পড়ে।
২০১৯ সালের একটি হিসেব অনুযায়ী সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন মানুষ ব্রাউজার ব্যবহার করেন। সমস্ত ব্রাউজার এর মধ্যে গুগল ক্রোম সবচেয়ে জনপ্রিয় যার বর্তমান মার্কেট শেয়ার ৬৪% ।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে Apple এর সাফারি যার মার্কেট শেয়ার ১৮% ।এছাড়া অন্যান্য ব্রাউজার গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফায়ারফক্স এবং মাইক্রোসফটের এজ।
বিভিন্ন ধরনের ওয়েব ব্রাউজার (Different Types of Web Browsers)
ব্যবহার, বৈশিষ্ট্য এবং উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ওয়েব ব্রাউজারকে বিভিন্ন ধরনের ভাগ করা যায়। প্রতিটি ধরনের ব্রাউজার নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য তৈরি। যেমন, সাধারণ ব্রাউজার দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য, AI ব্রাউজার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে দ্রুত তথ্য ও সহায়তা দেয়, Privacy ব্রাউজার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখে, Mobile ব্রাউজার মোবাইল ব্যবহারের জন্য, Lightweight ব্রাউজার কম ডেটা ও RAM ব্যবহার করে, আর Developer ব্রাউজার ওয়েবসাইট তৈরি ও পরীক্ষার জন্য ব্যবহার হয়।
বিভিন্ন ধরনের ব্রাউজার
| ব্রাউজারের ধরন | সহজ ব্যাখ্যা | সহজ উদাহরণ |
|---|---|---|
| Traditional Browser | সাধারণভাবে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। | Google Chrome, Mozilla Firefox |
| AI Browser | AI ব্যবহার করে প্রশ্নের উত্তর দেয়, সারাংশ তৈরি করে এবং তথ্য খুঁজে দেয়। | Perplexity Comet, Dia |
| Agentic AI Browser | AI নিজে থেকে পরিকল্পনা করে একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। | OpenAI Operator, Perplexity Comet |
| Privacy Browser | ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করে ও ট্র্যাকার ব্লক করে। | Brave, Tor Browser |
| Mobile Browser | মোবাইল ফোনে ব্যবহারের জন্য তৈরি। | Google Chrome (Android), Safari (iPhone) |
| Lightweight Browser | কম RAM ও কম ইন্টারনেট ব্যবহার করে। | Midori |
| Developer Browser | ওয়েবসাইট বানানো ও টেস্ট করার জন্য ব্যবহার হয়। | Google Chrome (Developer Tools) |
AI Browser কীভাবে কাজ করে?
AI Browser-এর মধ্যে একটি Large Language Model (LLM) থাকে। তাই এটি শুধু ওয়েবসাইট দেখায় না, বরং আপনার প্রশ্ন বুঝে ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয়ে সহজ ভাষায় উত্তর দেয়।
কাজের ধাপ:
- আপনি কী জানতে চাচ্ছেন সেটা বোঝে।
- প্রয়োজন হলে ইন্টারনেট থেকে তথ্য খোঁজে।
- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেছে নেয়।
- সহজ ভাষায় উত্তর বা সারাংশ তৈরি করে।
- উদাহরণ :
ধরুন আপনি লিখলেন:
“ভারতের স্বাধীনতা দিবস সম্পর্কে ৫ লাইনের সারাংশ দাও।”
AI Browser তখন বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে খুব দ্রুত একটি ছোট ও সহজ সারাংশ তৈরি করে দেবে।
আরেকটি উদাহরণ:
“কলকাতা থেকে দিল্লি ট্রেন ভাড়া কত হতে পারে?”
AI Browser বিভিন্ন রেল তথ্য দেখে আনুমানিক ভাড়া ও তথ্য দেখাতে পারে।
Agentic AI Browser কীভাবে কাজ করে?
Agentic AI Browser আরও উন্নত। এটি শুধু উত্তর দেয় না, বরং একটি লক্ষ্য বুঝে নিজে থেকেই পুরো কাজ পরিকল্পনা করে ধাপে ধাপে শেষ করতে পারে।
কাজের ধাপ:
- আপনার লক্ষ্য বোঝে।
- কাজটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে।
- দরকার হলে একাধিক ওয়েবসাইট ব্যবহার করে।
- তথ্য সংগ্রহ ও তুলনা করে।
- শেষে পুরো ফলাফল একসাথে দেয়।
উদাহরণ
আপনি লিখলেন:
“আগামী সপ্তাহে কলকাতা থেকে দিল্লি যাওয়ার সবচেয়ে সস্তা ফ্লাইট খুঁজে দাও এবং ৩ দিনের বাজেট ট্রিপ প্ল্যান বানাও।”
তখন Agentic AI Browser:
- ইন্ডিয়ার বিভিন্ন ফ্লাইট বুকিং সাইট থেকে দাম তুলনা করবে
- সবচেয়ে কম খরচের ফ্লাইট বেছে নেবে
- দিল্লির হোটেল ও লোকেশন খুঁজবে
- ৩ দিনের ট্রাভেল প্ল্যান বানাবে
- সব কিছু একসাথে সাজিয়ে দেবে
AI Browser ও Agentic AI Browser-এর পার্থক্য
| AI Browser | Agentic AI Browser |
|---|---|
| প্রশ্নের উত্তর দেয়। | পুরো কাজ নিজে করে ফেলে। |
| তথ্য খুঁজে সারাংশ দেয়। | পরিকল্পনা + তুলনা + সিদ্ধান্ত নেয়। |
| ব্যবহারকারীর নির্দেশ লাগে। | নিজে থেকে পরবর্তী ধাপ ঠিক করে। |
| উদাহরণ: Perplexity Comet, Dia | উদাহরণ: OpenAI Operator |
এবারে আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্রাউজারের সংক্ষিপ্ত একটি ইতিহাস সম্পর্কে:
বিশ্বের প্রথম ওয়েব ব্রাউজার
অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে প্রথম ওয়েব ব্রাউজার কোনটি ছিল কিংবা অনেকেই জানতে চান সর্বপ্রথম তৈরি ব্রাউজারের নাম কি?
সর্বপ্রথম ওয়েব ব্রাউজারের নাম হল world-wide-web.
১৯৯০ সালে স্যার Tim Berners Lee তৈরি করেছিলেন। এর পর ১৯৯১ সালে লাইন মোড বাউজার তৈরি হয়। এরপরের অংশ শুধু এগিয়ে চলার গল্প। ইন্টারনেট জগতের উন্নতির সাথে সাথে ব্রাউজারের অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।
১৯৯৩ সালে তৈরি হওয়া মোজাইক ব্রাউজারটিকে পৃথিবীর প্রথম সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। এই মোজাইক ব্রাউজারটির মধ্যে ছিল
পৃথিবীর সর্বপ্রথম গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) । এরপরে এলো মাইক্রোসফট -এর যুগ। মাইক্রোসফট এর বাজার এ আনা প্রথম ইন্টারনেট ব্রাউজার টি নাম হল ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার যেটি মাইক্রোসফট ১৯৯৫ সালে বাজারে এনেছিল।
মূলত মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের এর সাথে ইন্টার্নেট এক্সপ্লোরের PREINSTALLED অবস্থায় আসতো। ২০০২ সাল পর্যন্ত ব্রাউজার এর জগতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার সবচেয়ে উপরের দিকে ছিল। ২০০২ এর হিসেব অনুযায়ী ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৯৫% দখল করেছিল।
এর পর ধীরে ধীরে ওয়েব দুনিয়া আর এক ইতিহাস এর মুখে এসে দাঁড়ালো যখন ২০০৮ সালে গুগল ক্রোম ব্রাউজার প্রথম বাজারে আনলো।
২০০৮ সালে গুগল ক্রোম ব্রাউজার আসার পর ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে এবং বর্তমানে গুগল ক্রোম ব্রাউজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্ৰিয় ইন্টারনেট ব্রাউজার। মাইক্রোসফট ও প্রতিযোগিতা ছাড়লো না।
এরপর ২০১৫ সালে উইন্ডোস ১০ রিলিজ এর করার সঙ্গে সঙ্গে ক্রোমিয়াম নির্ভর এজ ব্রাউজারটি বাজারে আনে। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এর মতো অত তা না হলেও এজ ব্রাউজার ও বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার হিসাবে আজ মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে।
বাংলা ভাষায় মোবাইলে ব্যবহারের জন্য তৈরি প্রথম web browser কি ?

বাংলা ভাষায় মোবাইলের জন্য তৈরি প্রথম ব্রাউজার হলো “দুরন্ত”। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ব্রাউজার যা আপনাকে হাই স্পিড ইন্টারনেট ,ভিডিও ,ছবি দেখার সুযোগ দেয়। এটির মধ্যে আছে বিল্টইন এড ব্লকার।
AI ওয়েব ব্রাউজার : নতুন সংযোজন

বর্তমানে AI এর যুগে সাধারণ ওয়েব ব্রাউজার ছাড়াও নতুন AI ওয়েব ব্রাউজার মানুষ ব্যাবহার করতে শুরু করেছে যেমন Perplexity এর তৈরী comet ব্রাউজার বা ওপেন AI এর তৈরী ChatGPT Atlas যা AI সার্চ ইঞ্জিন এর মধ্যেও ওয়েব ব্রাউসিং এর সুবিধা দিচ্ছে।
ওয়েব ব্রাউজার কিভাবে কাজ করে?
ওয়েব ব্রাউজার আসলে হলো একটি বিশেষ সফটওয়্যার যা আপনাকে মোবাইল বা পিসি টি ডাউনলোড করতে হয় তার পরেই আপনি ইন্টারনেট এ যত ওয়েবসাইট কাছে তার সব দেখতে পান আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার এ।
এবার একটু দেখে নেয়া যাক টেকনিকাল ভাবে ওয়েব ব্রাউজার ঠিক কি করে।
প্রথমে ,আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইট এর এড্র্রেস টাইপ করেন ব্রাউজার এ যেমন ধরুন google.com তখন কিন্তু আপনার ব্রাউজার আপনার ওয়েবপেজ এর রিকোয়েস্ট তা DNS (Domain Name System) এর কাছে পাঠিয়ে দেয়। এখানে মনে রাখতে হবে ব্রাউজার কিন্তু কোনো ওয়েব পেজ এড্রেস জানে না ব্রাউজার শুধু জানে IP এড্রেস।

দ্বিতীয় ধাপে
আপনার ব্রাউজার যখন ,DNS (Domain Name System) এর কাছ থেকে ওয়েবপেজ এর IP এড্রেস পেয়ে যায় তখন সেই ওয়েবপেজ এর ওয়েব সার্ভার কে ,বলে সব ফাইল ,ছবি সমেত ওই ওয়েবপেজ তা ব্রাউজার কে পাঠাতে।
শেষ ধাপে
আপনার ব্রাউজার ওয়েব সার্ভার থেকে পাওয়া সব ফাইল,ইমেজ, জাভাস্ক্রিপ্ট রেন্ডার করে আপনার ব্রাউজার কে সুন্দর করে ওই ওয়েবপেজ টি দেখায়। আপনি এসব কিছুই বুজতে পারেন না এর কারণ সমস্ত পক্রিয়া টি ঘটে কয়েক মিলিসেকেন্ড এ। আর সবচেয়ে বড়ো কথা এটি ঘটে ব্যাকগ্রাউন্ড পক্রিয়া হিসাবে আড়ালে।
ওয়েব ব্রাউজর কী ও কয়েকটি ওয়েব ব্রাউজার নাম
গুগল কোন ওয়েব ব্রাউজার ডেভেলপ করেছে?
গুগল ক্রোম ওয়েব ব্রাউজার ডেভেলপ করেছে যা পরবর্তীকালে ওয়েব ব্রাউজার এর দুনিয়াতে বেশিরভাগ মানুষ ব্যাবহার করেন। গুগল ক্রোম এর গ্লোবাল মার্কেট শেয়ার প্রায় ৬৫% .
১. গুগল ক্রোম
গুগল ক্রোম বর্তমান সময়ে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সেরা ব্রাউজার ।গুগল ক্রোম গুগল ক্রোম ওয়েব ব্রাউজারের জগতে সবচেয়ে পরিচিত নাম। ২০০৮ সালে বাজার এ আসার পর উইন্ডোস এর সাথে সাথে এটি ম্যাক এবং লিনাক্স কম্পিউটারের জন্য উপলব্ধ হল।
এছাড়াও মোবাইলের জন্য অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস অপারেটিং সিস্টেম সবার জন্যেই পাওয়া যায় গুগল ক্রোম। আপনি যদি গুগল সার্ভিস বেশি ব্যাবহার করে থাকেন যেমন জিমেইল ,ইউটিউব, সেক্ষেত্রে গুগল ক্রোম আপনার জন্য খুবই উপযোগী।
এর কারণ যেহেতু গুগল ক্রোম গুগলের একটি প্রোডাক্ট তাই গুগলের যে কোন সার্ভিস গুগল ক্রোমে খুবই ভালো লোড হয়।
গুগল ক্রোম এর অসাধারণ ব্রাউজার এক্সটেনশন লাইব্রেরি এবং প্রতিনিয়ত সিকিউরিটি আপডেট গুগল ক্রোম কে অন্যান্য ব্রাউজার এর থেকে এগিয়ে রেখেছে। অনেকেই বলেন যে গুগল ক্রোম এর ইনকগনিটো মোড আপনার প্রাইভেসি কে সম্পুর্নরূপে প্রোটেক্ট করতে পারে না।
তবে কিছু অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও গুগল ক্রোম অনেক এগিয়ে।
২. মাইক্রোসফট এজ
মাইক্রোসফট এজ দুই নম্বর এ আছে।
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এর পর এটি মাইক্রোসফট এর সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। মাইক্রোসফট এজ এর উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলির মধ্যে হলো built-in কর্টানা সাপোর্ট, বুকমার্ক এবং ব্রাউজিং হিস্ট্রি সিঙ্ক , টাইমলাইন সাপোর্ট।
এছাড়াও ভয়েসে dictate ও মাইক্রোসফট এজ এর একটি নতুন প্রযুক্তি। তবে অনেকের মতে মাইক্রোসফট এজ একটু বেশি resource hungry সফটওয়্যার যার ফলে আপনার মেশিন এর কনফিগারেশন কম থাকে আপনি মাইক্রোসফট এজ এর থেকে ১০০% পারফর্মান্স পাবেন না।
৩. Aloha ব্রাউজার
Aloha ব্রাউজার টি বর্তমানে একটি জনপ্রিয় ব্রাউজার। ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য Aloha ব্রাউজার উপযোগী কারণ এই বাজেটে ব্যবহার করলে আপনাকে আর আলাদা করে কোন ভিপিএন সফটওয়্যার ব্যবহার করা দরকার হয় না। এটির built-in ভার্চুয়ালিটি ভিডিওস সাপোর্ট ও ব্রউজারটি কে বেশ আকর্ষণীয় করেছে।
ব্রাউজারটি কিছু দুর্বল দিক রয়েছে যেমনি ব্রাউজারটিতে প্রচুর সংখ্যক অবাঞ্ছিত অ্যাড দেখা যায় ,এ টি আই এস এর ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড ইন্টিগ্রেশন সাপোর্ট করে না।
৪. Brave ব্রাউজার
Brave ব্রাউজার মূলত প্রাইভেসি কেন্দ্রিক ব্রাউজার। আপনারা যারা নিজেদের প্রাইভেসি এবং সিকিউরিটি কে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে চান তাদের জন্য Brave ব্রাউজারটি দারুন। এটি এডভার্টাইজিং, কুকিজ ,ফিসলিং থেকে অটোমেটিক্যালি আপনার ডিভাইসটি রক্ষা করে।
এদিকে মধ্যে থাকা https everywhere প্রযুক্তির সাহায্যে এটি ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং কে প্রতিহত করতে পারে।
এছাড়াও ব্রাউজারটির মধ্যে অটোমেটিক্যালি cryptocurrecy ওয়ালেট সাপোর্ট আছে । আপনি যদি ক্রিপ্টোকারেন্সি তে আগ্রহী হন তবে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি ও আপনি আপনার ব্রাউজারের মাধ্যমে জমাতে পারেন বেসিক অ্যাটেনশন টোকেন (Basic Attention Token ) হিসাবে।
উইন্ডোজ ,ম্যাক, লিনাক্স কম্পিউটার সাথে ব্রাউজারটি আইওএস এবং এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য উপলব্ধ।
৫. ভিভালদি Vivaldi Browser
Vivaldi Browser এটি মূলত একটি প্রাইভেসী কেন্দ্রিক ব্রাউজার। ভিভালদি ২০১৬ সালে সর্বপ্রথম তৈরি হয়েছিল। Vivaldi Browser এর প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো যে আপনি এই ব্রাউজার টি কে থেকে নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করতে পারেন। এটি উইন্ডোজ ম্যাক লিনাক্স কম্পিউটার এর জন্য উপলব্ধ।
৬. Duck Duck Go
ডাকডাকগো মূলত একটি সার্চ ইঞ্জিন। তবে এটি একটি প্রাইভেট ইন্টারনেট ব্রাউজার হিসেবে ও পরিচিত। এটি আপনা থেকেই সমস্ত অনলাইন ট্রাকিং প্রতিহত করে। আপনারা যারা প্রাইভেসি ফোকাস তারা এই ডাকডাকগো অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন। ডাকডাকগো ব্রাউজারটি আরেকটি বিষয় হলো এটি একটি সিকিউরিটি ফিচার। আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিং হিস্ট্রি কোন কিছুই এই ডাকডাকগো নিজের কাছে জমা করে রাখে না।
বর্তমানে ডাকডাকগো অ্যান্ড্রয়েড আইওএস এর জন্য উপলব্ধ।
৭. সাফারি
Apple এর ব্যাবহারকারীদের জন্য সাফারি একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্রাউজার। অ্যাপেলের তরফ থেকে সাফারি হলো সর্বপ্রথম ওয়েব ব্রাউজার যেটি আইফোন ,আইপ্যাড, অ্যাপেল ওয়াচ এ সমস্ত ডিভাইসে সাপোর্ট করে। ব্রাউজারটির বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এটির built-in appleid সাপোর্ট এবং ব্রাউজিং হিস্ট্রি সিঙ্ক ইত্যাদি। ব্রউজারটির কিছু কিছু দুর্বল দিক হলো সীমিত কাস্টমাইজেশনের এর অপশন।
আরো পড়ুন :এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কি ,জনপ্রিয় এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার কোনটি
৮. ফায়ারফক্স
ফায়ারফক্স অনেকেই মজিলা ফায়ারফক্স করে থাকেন। এটি একটি খুবই পুরাতন ওয়েব ব্রাউজার এবং ২০০২ সাল থেকে মার্কেটএ রয়েছে। মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজারটি উল্লেখযোগ্য বিশিষ্ট হলো অসংখ্য লাইব্রেরি এবং উইন্ডোজের হ্যালো অথেন্টিকেশন।
যদিও প্রথমবার শুরু করার পর ফায়ারফক্স উপাদতে হতে বেশি সময় নেয় কিন্তু একবার আপডেট হয়ে গেলে এটি বেশ দ্রুত চলে।
বর্তমানে ফায়ারফক্স ,উইন্ডোজ, ম্যাক, লিনাক্স আইওএস অ্যান্ড্রয়েড সমস্ত প্রকার ডিভাইসের জন্য উপলব্ধ।
৯. Opera ব্রাউজার
Opera ব্রাউজার ১৯৯৬ সালে প্রথম এসেছিল এরপর এটি বেশ জনপ্রিয় হয়।
Opera ব্রাউজার ফেসবুক মেসেঞ্জার ,হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাপোর্ট করে এই সমস্ত মিডিয়াগুলো আপনার ব্রাউজার থেকেই ব্যাবহার করার সুযোগ দেয় addon হিসাবে।
এছাড়া কাস্টম ওয়ালপেপার ,অপেরা ইউএসবি টিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
অপেরা ইউএসবি হল অপেরার একটি ক্ষুদ্র ভার্সন যেটিকে যেকোনো ইউএসবি ড্রাইভ থেকে আপনি আপনার কম্পিউটারে চালাতে পারেন।
তাই আপনি যদি লাইট ভার্সন ভালো মানের ওয়েব ব্রাউজারের খোঁজ করে থাকেন তবে অপেরা ইউএসবি আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে।
আশা করি ওয়েব ব্রাউজার পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। যদি পোস্টটি ভাল লেগে থাকে তো আপনারা এই পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং যদি কোন কমেন্ট থাকে নিজের দিয়ে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে সাহায্য করবেন। ধন্যবাদ।



